সূরা আশ-শুআরা (মক্কী)

সূরা নং 26 • 227 আয়াত

بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

💡
তাফসীর দেখতে আয়াতে ক্লিক করুন
  1. طسٓمٓ
    26 : 1
    ত্বা, সীন, মীম।

  2. تِلۡكَ ءَايَٰتُ ٱلۡكِتَٰبِ ٱلۡمُبِينِ
    26 : 2
    এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।

  3. لَعَلَّكَ بَٰخِعٞ نَّفۡسَكَ أَلَّا يَكُونُواْ مُؤۡمِنِينَ
    26 : 3
    তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।

  4. إِن نَّشَأۡ نُنَزِّلۡ عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلسَّمَآءِ ءَايَةٗ فَظَلَّتۡ أَعۡنَٰقُهُمۡ لَهَا خَٰضِعِينَ
    26 : 4
    আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।

  5. وَمَا يَأۡتِيهِم مِّن ذِكۡرٖ مِّنَ ٱلرَّحۡمَٰنِ مُحۡدَثٍ إِلَّا كَانُواْ عَنۡهُ مُعۡرِضِينَ
    26 : 5
    যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

  6. فَقَدۡ كَذَّبُواْ فَسَيَأۡتِيهِمۡ أَنۢبَـٰٓؤُاْ مَا كَانُواْ بِهِۦ يَسۡتَهۡزِءُونَ
    26 : 6
    অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।

  7. أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ إِلَى ٱلۡأَرۡضِ كَمۡ أَنۢبَتۡنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوۡجٖ كَرِيمٍ
    26 : 7
    তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ-বস্তু কত উদগত করেছি।

  8. إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 8
    নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।

  9. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 9
    আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু।

  10. وَإِذۡ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱئۡتِ ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ
    26 : 10
    যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;

  11. قَوۡمَ فِرۡعَوۡنَۚ أَلَا يَتَّقُونَ
    26 : 11
    ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?

  12. قَالَ رَبِّ إِنِّيٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
    26 : 12
    সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে।

  13. وَيَضِيقُ صَدۡرِي وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِي فَأَرۡسِلۡ إِلَىٰ هَٰرُونَ
    26 : 13
    এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।

  14. وَلَهُمۡ عَلَيَّ ذَنۢبٞ فَأَخَافُ أَن يَقۡتُلُونِ
    26 : 14
    আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।

  15. قَالَ كَلَّاۖ فَٱذۡهَبَا بِـَٔايَٰتِنَآۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسۡتَمِعُونَ
    26 : 15
    আল্লাহ বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।

  16. فَأۡتِيَا فِرۡعَوۡنَ فَقُولَآ إِنَّا رَسُولُ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 16
    অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল।

  17. أَنۡ أَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِيٓ إِسۡرَـٰٓءِيلَ
    26 : 17
    যাতে তুমি বনী-ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।

  18. قَالَ أَلَمۡ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدٗا وَلَبِثۡتَ فِينَا مِنۡ عُمُرِكَ سِنِينَ
    26 : 18
    ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ।

  19. وَفَعَلۡتَ فَعۡلَتَكَ ٱلَّتِي فَعَلۡتَ وَأَنتَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ
    26 : 19
    তুমি সেই-তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।

  20. قَالَ فَعَلۡتُهَآ إِذٗا وَأَنَا۠ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ
    26 : 20
    মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।

  21. فَفَرَرۡتُ مِنكُمۡ لَمَّا خِفۡتُكُمۡ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكۡمٗا وَجَعَلَنِي مِنَ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
    26 : 21
    অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।

  22. وَتِلۡكَ نِعۡمَةٞ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنۡ عَبَّدتَّ بَنِيٓ إِسۡرَـٰٓءِيلَ
    26 : 22
    আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী-ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ।

  23. قَالَ فِرۡعَوۡنُ وَمَا رَبُّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 23
    ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি?

  24. قَالَ رَبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَآۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ
    26 : 24
    মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।

  25. قَالَ لِمَنۡ حَوۡلَهُۥٓ أَلَا تَسۡتَمِعُونَ
    26 : 25
    ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না?

  26. قَالَ رَبُّكُمۡ وَرَبُّ ءَابَآئِكُمُ ٱلۡأَوَّلِينَ
    26 : 26
    মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।

  27. قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ ٱلَّذِيٓ أُرۡسِلَ إِلَيۡكُمۡ لَمَجۡنُونٞ
    26 : 27
    ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল।

  28. قَالَ رَبُّ ٱلۡمَشۡرِقِ وَٱلۡمَغۡرِبِ وَمَا بَيۡنَهُمَآۖ إِن كُنتُمۡ تَعۡقِلُونَ
    26 : 28
    মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।

  29. قَالَ لَئِنِ ٱتَّخَذۡتَ إِلَٰهًا غَيۡرِي لَأَجۡعَلَنَّكَ مِنَ ٱلۡمَسۡجُونِينَ
    26 : 29
    ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।

  30. قَالَ أَوَلَوۡ جِئۡتُكَ بِشَيۡءٖ مُّبِينٖ
    26 : 30
    মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?

  31. قَالَ فَأۡتِ بِهِۦٓ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ
    26 : 31
    ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।

  32. فَأَلۡقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعۡبَانٞ مُّبِينٞ
    26 : 32
    অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।

  33. وَنَزَعَ يَدَهُۥ فَإِذَا هِيَ بَيۡضَآءُ لِلنَّـٰظِرِينَ
    26 : 33
    আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো।

  34. قَالَ لِلۡمَلَإِ حَوۡلَهُۥٓ إِنَّ هَٰذَا لَسَٰحِرٌ عَلِيمٞ
    26 : 34
    ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।

  35. يُرِيدُ أَن يُخۡرِجَكُم مِّنۡ أَرۡضِكُم بِسِحۡرِهِۦ فَمَاذَا تَأۡمُرُونَ
    26 : 35
    সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি?

  36. قَالُوٓاْ أَرۡجِهۡ وَأَخَاهُ وَٱبۡعَثۡ فِي ٱلۡمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ
    26 : 36
    তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন।

  37. يَأۡتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٖ
    26 : 37
    তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।

  38. فَجُمِعَ ٱلسَّحَرَةُ لِمِيقَٰتِ يَوۡمٖ مَّعۡلُومٖ
    26 : 38
    অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।

  39. وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلۡ أَنتُم مُّجۡتَمِعُونَ
    26 : 39
    এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও।

  40. لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ ٱلسَّحَرَةَ إِن كَانُواْ هُمُ ٱلۡغَٰلِبِينَ
    26 : 40
    যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি-যদি তারাই বিজয়ী হয়।

  41. فَلَمَّا جَآءَ ٱلسَّحَرَةُ قَالُواْ لِفِرۡعَوۡنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجۡرًا إِن كُنَّا نَحۡنُ ٱلۡغَٰلِبِينَ
    26 : 41
    যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?

  42. قَالَ نَعَمۡ وَإِنَّكُمۡ إِذٗا لَّمِنَ ٱلۡمُقَرَّبِينَ
    26 : 42
    ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

  43. قَالَ لَهُم مُّوسَىٰٓ أَلۡقُواْ مَآ أَنتُم مُّلۡقُونَ
    26 : 43
    মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।

  44. فَأَلۡقَوۡاْ حِبَالَهُمۡ وَعِصِيَّهُمۡ وَقَالُواْ بِعِزَّةِ فِرۡعَوۡنَ إِنَّا لَنَحۡنُ ٱلۡغَٰلِبُونَ
    26 : 44
    অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব।

  45. فَأَلۡقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلۡقَفُ مَا يَأۡفِكُونَ
    26 : 45
    অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।

  46. فَأُلۡقِيَ ٱلسَّحَرَةُ سَٰجِدِينَ
    26 : 46
    তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।

  47. قَالُوٓاْ ءَامَنَّا بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 47
    তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।

  48. رَبِّ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
    26 : 48
    যিনি মূসা ও হারুনের রব।

  49. قَالَ ءَامَنتُمۡ لَهُۥ قَبۡلَ أَنۡ ءَاذَنَ لَكُمۡۖ إِنَّهُۥ لَكَبِيرُكُمُ ٱلَّذِي عَلَّمَكُمُ ٱلسِّحۡرَ فَلَسَوۡفَ تَعۡلَمُونَۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيۡدِيَكُمۡ وَأَرۡجُلَكُم مِّنۡ خِلَٰفٖ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمۡ أَجۡمَعِينَ
    26 : 49
    ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।

  50. قَالُواْ لَا ضَيۡرَۖ إِنَّآ إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
    26 : 50
    তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব।

  51. إِنَّا نَطۡمَعُ أَن يَغۡفِرَ لَنَا رَبُّنَا خَطَٰيَٰنَآ أَن كُنَّآ أَوَّلَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
    26 : 51
    আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি-বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী।

  52. ۞وَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنۡ أَسۡرِ بِعِبَادِيٓ إِنَّكُم مُّتَّبَعُونَ
    26 : 52
    আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।

  53. فَأَرۡسَلَ فِرۡعَوۡنُ فِي ٱلۡمَدَآئِنِ حَٰشِرِينَ
    26 : 53
    অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,

  54. إِنَّ هَـٰٓؤُلَآءِ لَشِرۡذِمَةٞ قَلِيلُونَ
    26 : 54
    নিশ্চয় এরা (বনী-ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।

  55. وَإِنَّهُمۡ لَنَا لَغَآئِظُونَ
    26 : 55
    এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।

  56. وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَٰذِرُونَ
    26 : 56
    এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।

  57. فَأَخۡرَجۡنَٰهُم مِّن جَنَّـٰتٖ وَعُيُونٖ
    26 : 57
    অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।

  58. وَكُنُوزٖ وَمَقَامٖ كَرِيمٖ
    26 : 58
    এবং ধন-ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।

  59. كَذَٰلِكَۖ وَأَوۡرَثۡنَٰهَا بَنِيٓ إِسۡرَـٰٓءِيلَ
    26 : 59
    এরূপই হয়েছিল এবং বনী-ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।

  60. فَأَتۡبَعُوهُم مُّشۡرِقِينَ
    26 : 60
    অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।

  61. فَلَمَّا تَرَـٰٓءَا ٱلۡجَمۡعَانِ قَالَ أَصۡحَٰبُ مُوسَىٰٓ إِنَّا لَمُدۡرَكُونَ
    26 : 61
    যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।

  62. قَالَ كَلَّآۖ إِنَّ مَعِيَ رَبِّي سَيَهۡدِينِ
    26 : 62
    মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।

  63. فَأَوۡحَيۡنَآ إِلَىٰ مُوسَىٰٓ أَنِ ٱضۡرِب بِّعَصَاكَ ٱلۡبَحۡرَۖ فَٱنفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرۡقٖ كَٱلطَّوۡدِ ٱلۡعَظِيمِ
    26 : 63
    অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।

  64. وَأَزۡلَفۡنَا ثَمَّ ٱلۡأٓخَرِينَ
    26 : 64
    আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।

  65. وَأَنجَيۡنَا مُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُۥٓ أَجۡمَعِينَ
    26 : 65
    এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।

  66. ثُمَّ أَغۡرَقۡنَا ٱلۡأٓخَرِينَ
    26 : 66
    অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।

  67. إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 67
    নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।

  68. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 68
    আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  69. وَٱتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَأَ إِبۡرَٰهِيمَ
    26 : 69
    আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।

  70. إِذۡ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوۡمِهِۦ مَا تَعۡبُدُونَ
    26 : 70
    যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?

  71. قَالُواْ نَعۡبُدُ أَصۡنَامٗا فَنَظَلُّ لَهَا عَٰكِفِينَ
    26 : 71
    তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।

  72. قَالَ هَلۡ يَسۡمَعُونَكُمۡ إِذۡ تَدۡعُونَ
    26 : 72
    ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?

  73. أَوۡ يَنفَعُونَكُمۡ أَوۡ يَضُرُّونَ
    26 : 73
    অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?

  74. قَالُواْ بَلۡ وَجَدۡنَآ ءَابَآءَنَا كَذَٰلِكَ يَفۡعَلُونَ
    26 : 74
    তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।

  75. قَالَ أَفَرَءَيۡتُم مَّا كُنتُمۡ تَعۡبُدُونَ
    26 : 75
    ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।

  76. أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُمُ ٱلۡأَقۡدَمُونَ
    26 : 76
    তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা ?

  77. فَإِنَّهُمۡ عَدُوّٞ لِّيٓ إِلَّا رَبَّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 77
    বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।

  78. ٱلَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهۡدِينِ
    26 : 78
    যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,

  79. وَٱلَّذِي هُوَ يُطۡعِمُنِي وَيَسۡقِينِ
    26 : 79
    যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,

  80. وَإِذَا مَرِضۡتُ فَهُوَ يَشۡفِينِ
    26 : 80
    যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।

  81. وَٱلَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحۡيِينِ
    26 : 81
    যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।

  82. وَٱلَّذِيٓ أَطۡمَعُ أَن يَغۡفِرَ لِي خَطِيٓـَٔتِي يَوۡمَ ٱلدِّينِ
    26 : 82
    আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন।

  83. رَبِّ هَبۡ لِي حُكۡمٗا وَأَلۡحِقۡنِي بِٱلصَّـٰلِحِينَ
    26 : 83
    হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর

  84. وَٱجۡعَل لِّي لِسَانَ صِدۡقٖ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ
    26 : 84
    এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।

  85. وَٱجۡعَلۡنِي مِن وَرَثَةِ جَنَّةِ ٱلنَّعِيمِ
    26 : 85
    এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।

  86. وَٱغۡفِرۡ لِأَبِيٓ إِنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلضَّآلِّينَ
    26 : 86
    এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।

  87. وَلَا تُخۡزِنِي يَوۡمَ يُبۡعَثُونَ
    26 : 87
    এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,

  88. يَوۡمَ لَا يَنفَعُ مَالٞ وَلَا بَنُونَ
    26 : 88
    যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না;

  89. إِلَّا مَنۡ أَتَى ٱللَّهَ بِقَلۡبٖ سَلِيمٖ
    26 : 89
    কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।

  90. وَأُزۡلِفَتِ ٱلۡجَنَّةُ لِلۡمُتَّقِينَ
    26 : 90
    জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।

  91. وَبُرِّزَتِ ٱلۡجَحِيمُ لِلۡغَاوِينَ
    26 : 91
    এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।

  92. وَقِيلَ لَهُمۡ أَيۡنَ مَا كُنتُمۡ تَعۡبُدُونَ
    26 : 92
    তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।

  93. مِن دُونِ ٱللَّهِ هَلۡ يَنصُرُونَكُمۡ أَوۡ يَنتَصِرُونَ
    26 : 93
    আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?

  94. فَكُبۡكِبُواْ فِيهَا هُمۡ وَٱلۡغَاوُۥنَ
    26 : 94
    অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।

  95. وَجُنُودُ إِبۡلِيسَ أَجۡمَعُونَ
    26 : 95
    এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।

  96. قَالُواْ وَهُمۡ فِيهَا يَخۡتَصِمُونَ
    26 : 96
    তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ

  97. تَٱللَّهِ إِن كُنَّا لَفِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٍ
    26 : 97
    আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।

  98. إِذۡ نُسَوِّيكُم بِرَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 98
    যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।

  99. وَمَآ أَضَلَّنَآ إِلَّا ٱلۡمُجۡرِمُونَ
    26 : 99
    আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।

  100. فَمَا لَنَا مِن شَٰفِعِينَ
    26 : 100
    অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।

  101. وَلَا صَدِيقٍ حَمِيمٖ
    26 : 101
    এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।

  102. فَلَوۡ أَنَّ لَنَا كَرَّةٗ فَنَكُونَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
    26 : 102
    হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।

  103. إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 103
    নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।

  104. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 104
    আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  105. كَذَّبَتۡ قَوۡمُ نُوحٍ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
    26 : 105
    নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।

  106. إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ نُوحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
    26 : 106
    যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?

  107. إِنِّي لَكُمۡ رَسُولٌ أَمِينٞ
    26 : 107
    আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।

  108. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 108
    অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  109. وَمَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 109
    আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন।

  110. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 110
    অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  111. ۞قَالُوٓاْ أَنُؤۡمِنُ لَكَ وَٱتَّبَعَكَ ٱلۡأَرۡذَلُونَ
    26 : 111
    তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?

  112. قَالَ وَمَا عِلۡمِي بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ
    26 : 112
    নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা জানা আমার কি দরকার?

  113. إِنۡ حِسَابُهُمۡ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّيۖ لَوۡ تَشۡعُرُونَ
    26 : 113
    তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!

  114. وَمَآ أَنَا۠ بِطَارِدِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
    26 : 114
    আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।

  115. إِنۡ أَنَا۠ إِلَّا نَذِيرٞ مُّبِينٞ
    26 : 115
    আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

  116. قَالُواْ لَئِن لَّمۡ تَنتَهِ يَٰنُوحُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمَرۡجُومِينَ
    26 : 116
    তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।

  117. قَالَ رَبِّ إِنَّ قَوۡمِي كَذَّبُونِ
    26 : 117
    নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।

  118. فَٱفۡتَحۡ بَيۡنِي وَبَيۡنَهُمۡ فَتۡحٗا وَنَجِّنِي وَمَن مَّعِيَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
    26 : 118
    অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।

  119. فَأَنجَيۡنَٰهُ وَمَن مَّعَهُۥ فِي ٱلۡفُلۡكِ ٱلۡمَشۡحُونِ
    26 : 119
    অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।

  120. ثُمَّ أَغۡرَقۡنَا بَعۡدُ ٱلۡبَاقِينَ
    26 : 120
    এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।

  121. إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 121
    নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।

  122. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 122
    নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  123. كَذَّبَتۡ عَادٌ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
    26 : 123
    আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

  124. إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ هُودٌ أَلَا تَتَّقُونَ
    26 : 124
    তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?

  125. إِنِّي لَكُمۡ رَسُولٌ أَمِينٞ
    26 : 125
    আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।

  126. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 126
    অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  127. وَمَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 127
    আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।

  128. أَتَبۡنُونَ بِكُلِّ رِيعٍ ءَايَةٗ تَعۡبَثُونَ
    26 : 128
    তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?

  129. وَتَتَّخِذُونَ مَصَانِعَ لَعَلَّكُمۡ تَخۡلُدُونَ
    26 : 129
    এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?

  130. وَإِذَا بَطَشۡتُم بَطَشۡتُمۡ جَبَّارِينَ
    26 : 130
    যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।

  131. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 131
    অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।

  132. وَٱتَّقُواْ ٱلَّذِيٓ أَمَدَّكُم بِمَا تَعۡلَمُونَ
    26 : 132
    ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।

  133. أَمَدَّكُم بِأَنۡعَٰمٖ وَبَنِينَ
    26 : 133
    তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র-সন্তান,

  134. وَجَنَّـٰتٖ وَعُيُونٍ
    26 : 134
    এবং উদ্যান ও ঝরণা।

  135. إِنِّيٓ أَخَافُ عَلَيۡكُمۡ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ
    26 : 135
    আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।

  136. قَالُواْ سَوَآءٌ عَلَيۡنَآ أَوَعَظۡتَ أَمۡ لَمۡ تَكُن مِّنَ ٱلۡوَٰعِظِينَ
    26 : 136
    তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।

  137. إِنۡ هَٰذَآ إِلَّا خُلُقُ ٱلۡأَوَّلِينَ
    26 : 137
    এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।

  138. وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِينَ
    26 : 138
    আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।

  139. فَكَذَّبُوهُ فَأَهۡلَكۡنَٰهُمۡۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 139
    অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।

  140. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 140
    এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  141. كَذَّبَتۡ ثَمُودُ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
    26 : 141
    সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

  142. إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ صَٰلِحٌ أَلَا تَتَّقُونَ
    26 : 142
    যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?

  143. إِنِّي لَكُمۡ رَسُولٌ أَمِينٞ
    26 : 143
    আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।

  144. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 144
    অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  145. وَمَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 145
    আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন।

  146. أَتُتۡرَكُونَ فِي مَا هَٰهُنَآ ءَامِنِينَ
    26 : 146
    তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ-বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?

  147. فِي جَنَّـٰتٖ وَعُيُونٖ
    26 : 147
    উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ?

  148. وَزُرُوعٖ وَنَخۡلٖ طَلۡعُهَا هَضِيمٞ
    26 : 148
    শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ?

  149. وَتَنۡحِتُونَ مِنَ ٱلۡجِبَالِ بُيُوتٗا فَٰرِهِينَ
    26 : 149
    তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ।

  150. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 150
    সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।

  151. وَلَا تُطِيعُوٓاْ أَمۡرَ ٱلۡمُسۡرِفِينَ
    26 : 151
    এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;

  152. ٱلَّذِينَ يُفۡسِدُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَلَا يُصۡلِحُونَ
    26 : 152
    যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;

  153. قَالُوٓاْ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلۡمُسَحَّرِينَ
    26 : 153
    তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন।

  154. مَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٞ مِّثۡلُنَا فَأۡتِ بِـَٔايَةٍ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ
    26 : 154
    তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর।

  155. قَالَ هَٰذِهِۦ نَاقَةٞ لَّهَا شِرۡبٞ وَلَكُمۡ شِرۡبُ يَوۡمٖ مَّعۡلُومٖ
    26 : 155
    সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক-এক দিনের।

  156. وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوٓءٖ فَيَأۡخُذَكُمۡ عَذَابُ يَوۡمٍ عَظِيمٖ
    26 : 156
    তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।

  157. فَعَقَرُوهَا فَأَصۡبَحُواْ نَٰدِمِينَ
    26 : 157
    তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।

  158. فَأَخَذَهُمُ ٱلۡعَذَابُۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 158
    এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।

  159. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 159
    আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  160. كَذَّبَتۡ قَوۡمُ لُوطٍ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
    26 : 160
    লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

  161. إِذۡ قَالَ لَهُمۡ أَخُوهُمۡ لُوطٌ أَلَا تَتَّقُونَ
    26 : 161
    যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?

  162. إِنِّي لَكُمۡ رَسُولٌ أَمِينٞ
    26 : 162
    আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।

  163. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 163
    অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  164. وَمَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 164
    আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তা দেবেন।

  165. أَتَأۡتُونَ ٱلذُّكۡرَانَ مِنَ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 165
    সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?

  166. وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمۡ رَبُّكُم مِّنۡ أَزۡوَٰجِكُمۚ بَلۡ أَنتُمۡ قَوۡمٌ عَادُونَ
    26 : 166
    এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।

  167. قَالُواْ لَئِن لَّمۡ تَنتَهِ يَٰلُوطُ لَتَكُونَنَّ مِنَ ٱلۡمُخۡرَجِينَ
    26 : 167
    তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।

  168. قَالَ إِنِّي لِعَمَلِكُم مِّنَ ٱلۡقَالِينَ
    26 : 168
    লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।

  169. رَبِّ نَجِّنِي وَأَهۡلِي مِمَّا يَعۡمَلُونَ
    26 : 169
    হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।

  170. فَنَجَّيۡنَٰهُ وَأَهۡلَهُۥٓ أَجۡمَعِينَ
    26 : 170
    অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।

  171. إِلَّا عَجُوزٗا فِي ٱلۡغَٰبِرِينَ
    26 : 171
    এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

  172. ثُمَّ دَمَّرۡنَا ٱلۡأٓخَرِينَ
    26 : 172
    এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।

  173. وَأَمۡطَرۡنَا عَلَيۡهِم مَّطَرٗاۖ فَسَآءَ مَطَرُ ٱلۡمُنذَرِينَ
    26 : 173
    তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি-প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।

  174. إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 174
    নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।

  175. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 175
    নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  176. كَذَّبَ أَصۡحَٰبُ لۡـَٔيۡكَةِ ٱلۡمُرۡسَلِينَ
    26 : 176
    বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।

  177. إِذۡ قَالَ لَهُمۡ شُعَيۡبٌ أَلَا تَتَّقُونَ
    26 : 177
    যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?

  178. إِنِّي لَكُمۡ رَسُولٌ أَمِينٞ
    26 : 178
    আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।

  179. فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ
    26 : 179
    অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

  180. وَمَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مِنۡ أَجۡرٍۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَىٰ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 180
    আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তাই দেবেন।

  181. ۞أَوۡفُواْ ٱلۡكَيۡلَ وَلَا تَكُونُواْ مِنَ ٱلۡمُخۡسِرِينَ
    26 : 181
    মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

  182. وَزِنُواْ بِٱلۡقِسۡطَاسِ ٱلۡمُسۡتَقِيمِ
    26 : 182
    সোজা দাঁড়ি-পাল্লায় ওজন কর।

  183. وَلَا تَبۡخَسُواْ ٱلنَّاسَ أَشۡيَآءَهُمۡ وَلَا تَعۡثَوۡاْ فِي ٱلۡأَرۡضِ مُفۡسِدِينَ
    26 : 183
    মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।

  184. وَٱتَّقُواْ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلۡجِبِلَّةَ ٱلۡأَوَّلِينَ
    26 : 184
    ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।

  185. قَالُوٓاْ إِنَّمَآ أَنتَ مِنَ ٱلۡمُسَحَّرِينَ
    26 : 185
    তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।

  186. وَمَآ أَنتَ إِلَّا بَشَرٞ مِّثۡلُنَا وَإِن نَّظُنُّكَ لَمِنَ ٱلۡكَٰذِبِينَ
    26 : 186
    তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা-তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

  187. فَأَسۡقِطۡ عَلَيۡنَا كِسَفٗا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ
    26 : 187
    অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।

  188. قَالَ رَبِّيٓ أَعۡلَمُ بِمَا تَعۡمَلُونَ
    26 : 188
    শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।

  189. فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمۡ عَذَابُ يَوۡمِ ٱلظُّلَّةِۚ إِنَّهُۥ كَانَ عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٍ
    26 : 189
    অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।

  190. إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَةٗۖ وَمَا كَانَ أَكۡثَرُهُم مُّؤۡمِنِينَ
    26 : 190
    নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।

  191. وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلرَّحِيمُ
    26 : 191
    নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।

  192. وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ
    26 : 192
    এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।

  193. نَزَلَ بِهِ ٱلرُّوحُ ٱلۡأَمِينُ
    26 : 193
    বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।

  194. عَلَىٰ قَلۡبِكَ لِتَكُونَ مِنَ ٱلۡمُنذِرِينَ
    26 : 194
    আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,

  195. بِلِسَانٍ عَرَبِيّٖ مُّبِينٖ
    26 : 195
    সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।

  196. وَإِنَّهُۥ لَفِي زُبُرِ ٱلۡأَوَّلِينَ
    26 : 196
    নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।

  197. أَوَلَمۡ يَكُن لَّهُمۡ ءَايَةً أَن يَعۡلَمَهُۥ عُلَمَـٰٓؤُاْ بَنِيٓ إِسۡرَـٰٓءِيلَ
    26 : 197
    তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী-ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?

  198. وَلَوۡ نَزَّلۡنَٰهُ عَلَىٰ بَعۡضِ ٱلۡأَعۡجَمِينَ
    26 : 198
    যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,

  199. فَقَرَأَهُۥ عَلَيۡهِم مَّا كَانُواْ بِهِۦ مُؤۡمِنِينَ
    26 : 199
    অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।

  200. كَذَٰلِكَ سَلَكۡنَٰهُ فِي قُلُوبِ ٱلۡمُجۡرِمِينَ
    26 : 200
    এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।

  201. لَا يُؤۡمِنُونَ بِهِۦ حَتَّىٰ يَرَوُاْ ٱلۡعَذَابَ ٱلۡأَلِيمَ
    26 : 201
    তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।

  202. فَيَأۡتِيَهُم بَغۡتَةٗ وَهُمۡ لَا يَشۡعُرُونَ
    26 : 202
    অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।

  203. فَيَقُولُواْ هَلۡ نَحۡنُ مُنظَرُونَ
    26 : 203
    তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?

  204. أَفَبِعَذَابِنَا يَسۡتَعۡجِلُونَ
    26 : 204
    তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?

  205. أَفَرَءَيۡتَ إِن مَّتَّعۡنَٰهُمۡ سِنِينَ
    26 : 205
    আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ-বিলাস করতে দেই,

  206. ثُمَّ جَآءَهُم مَّا كَانُواْ يُوعَدُونَ
    26 : 206
    অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।

  207. مَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُم مَّا كَانُواْ يُمَتَّعُونَ
    26 : 207
    তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?

  208. وَمَآ أَهۡلَكۡنَا مِن قَرۡيَةٍ إِلَّا لَهَا مُنذِرُونَ
    26 : 208
    আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।

  209. ذِكۡرَىٰ وَمَا كُنَّا ظَٰلِمِينَ
    26 : 209
    স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।

  210. وَمَا تَنَزَّلَتۡ بِهِ ٱلشَّيَٰطِينُ
    26 : 210
    এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।

  211. وَمَا يَنۢبَغِي لَهُمۡ وَمَا يَسۡتَطِيعُونَ
    26 : 211
    তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ?451; রাখে না।

  212. إِنَّهُمۡ عَنِ ٱلسَّمۡعِ لَمَعۡزُولُونَ
    26 : 212
    তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।

  213. فَلَا تَدۡعُ مَعَ ٱللَّهِ إِلَٰهًا ءَاخَرَ فَتَكُونَ مِنَ ٱلۡمُعَذَّبِينَ
    26 : 213
    অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।

  214. وَأَنذِرۡ عَشِيرَتَكَ ٱلۡأَقۡرَبِينَ
    26 : 214
    আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।

  215. وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ
    26 : 215
    এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।

  216. فَإِنۡ عَصَوۡكَ فَقُلۡ إِنِّي بَرِيٓءٞ مِّمَّا تَعۡمَلُونَ
    26 : 216
    যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।

  217. وَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱلۡعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ
    26 : 217
    আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,

  218. ٱلَّذِي يَرَىٰكَ حِينَ تَقُومُ
    26 : 218
    যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন,

  219. وَتَقَلُّبَكَ فِي ٱلسَّـٰجِدِينَ
    26 : 219
    এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।

  220. إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ
    26 : 220
    নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।

  221. هَلۡ أُنَبِّئُكُمۡ عَلَىٰ مَن تَنَزَّلُ ٱلشَّيَٰطِينُ
    26 : 221
    আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?

  222. تَنَزَّلُ عَلَىٰ كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٖ
    26 : 222
    তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।

  223. يُلۡقُونَ ٱلسَّمۡعَ وَأَكۡثَرُهُمۡ كَٰذِبُونَ
    26 : 223
    তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।

  224. وَٱلشُّعَرَآءُ يَتَّبِعُهُمُ ٱلۡغَاوُۥنَ
    26 : 224
    বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।

  225. أَلَمۡ تَرَ أَنَّهُمۡ فِي كُلِّ وَادٖ يَهِيمُونَ
    26 : 225
    তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?

  226. وَأَنَّهُمۡ يَقُولُونَ مَا لَا يَفۡعَلُونَ
    26 : 226
    এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।

  227. إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَٰتِ وَذَكَرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا وَٱنتَصَرُواْ مِنۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُواْۗ وَسَيَعۡلَمُ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوٓاْ أَيَّ مُنقَلَبٖ يَنقَلِبُونَ
    26 : 227
    তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।