سورة النجمAn-Najm53সূরা62আয়াতMakkiঅবতীর্ণসূরা পরিসংখ্যান, অন্তর্দৃষ্টি এবং মেটাডেটা অন্বেষণ করুন
53
সূরা
62
আয়াত
Makki
অবতীর্ণ
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ
1
وَٱلنَّجۡمِ إِذَا هَوَىٰ
কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
Tafseer
2
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمۡ وَمَا غَوَىٰ
তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হয়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।
Tafseer
3
وَمَا يَنطِقُ عَنِ ٱلۡهَوَىٰٓ
আর সে মনগড়া কথা বলে না।
Tafseer
4
إِنۡ هُوَ إِلَّا وَحۡيٞ يُوحَىٰ
তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়।
Tafseer
5
عَلَّمَهُۥ شَدِيدُ ٱلۡقُوَىٰ
তাকে শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তিধর,
Tafseer
6
ذُو مِرَّةٖ فَٱسۡتَوَىٰ
প্রজ্ঞার অধিকারী*। অতঃপর সে স্থির হয়েছিল,* জিবরীল।
Tafseer
7
وَهُوَ بِٱلۡأُفُقِ ٱلۡأَعۡلَىٰ
তখন সে ঊর্ধ্ব দিগন্তে।
Tafseer
8
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
তারপর সে নিকটবর্তী হল, অতঃপর আরো কাছে এল।
Tafseer
9
فَكَانَ قَابَ قَوۡسَيۡنِ أَوۡ أَدۡنَىٰ
তখন সে নৈকট্য ছিল দু’ ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম।
Tafseer
10
فَأَوۡحَىٰٓ إِلَىٰ عَبۡدِهِۦ مَآ أَوۡحَىٰ
অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।
Tafseer
11
مَا كَذَبَ ٱلۡفُؤَادُ مَا رَأَىٰٓ
সে যা দেখেছে, অন্তকরণ সে সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি।
Tafseer
12
أَفَتُمَٰرُونَهُۥ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ
সে যা দেখেছে, সে সম্পর্কে তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করবে?
Tafseer
13
وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ
আর সে তো তাকে* আরেকবার** দেখেছিল।* জিবরীলকে।
Tafseer
14
عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ
সিদরাতুল মুনতাহার* নিকট।* সিদরাতুল মুনতাহা হল সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন।
Tafseer
15
عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰٓ
যার কাছে জান্নাতুল মা’ওয়া* অবস্থিত।* ফেরেশতা, শহীদদের রূহ ও মুত্তাকীদের অবস্থানস্থল।
Tafseer
16
إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ
যখন কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল।
Tafseer
17
مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
তার দৃষ্টি এদিক-সেদিক যায়নি এবং সীমাও অতিক্রম করেনি।
Tafseer
18
لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ
নিশ্চয় সে তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ থেকে দেখেছে।
Tafseer
19
أَفَرَءَيۡتُمُ ٱللَّـٰتَ وَٱلۡعُزَّىٰ
তোমরা লাত ও ‘উযযা সম্পর্কে আমাকে বল’?
Tafseer
20
وَمَنَوٰةَ ٱلثَّالِثَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰٓ
আর মানাত সম্পর্কে, যা তৃতীয় আরেকটি?
Tafseer
21
أَلَكُمُ ٱلذَّكَرُ وَلَهُ ٱلۡأُنثَىٰ
তোমাদের জন্য কি পুত্র আর আল্লাহর জন্য কন্যা?
Tafseer
22
تِلۡكَ إِذٗا قِسۡمَةٞ ضِيزَىٰٓ
এটাতো তাহলে এক অসঙ্গত বণ্টন!
Tafseer
23
إِنۡ هِيَ إِلَّآ أَسۡمَآءٞ سَمَّيۡتُمُوهَآ أَنتُمۡ وَءَابَآؤُكُم مَّآ أَنزَلَ ٱللَّهُ بِهَا مِن سُلۡطَٰنٍۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّ وَمَا تَهۡوَى ٱلۡأَنفُسُۖ وَلَقَدۡ جَآءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ ٱلۡهُدَىٰٓ
এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।
Tafseer
24
أَمۡ لِلۡإِنسَٰنِ مَا تَمَنَّىٰ
মানুষের জন্য তা কি হয়, যা সে চায়?
Tafseer
25
فَلِلَّهِ ٱلۡأٓخِرَةُ وَٱلۡأُولَىٰ
বস্তুতঃ পরকাল ও ইহকাল তো আল্লাহরই।
Tafseer
26
۞وَكَم مِّن مَّلَكٖ فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ لَا تُغۡنِي شَفَٰعَتُهُمۡ شَيۡـًٔا إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ أَن يَأۡذَنَ ٱللَّهُ لِمَن يَشَآءُ وَيَرۡضَىٰٓ
আর আসমানসমূহে অনেক ফেরেশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট, তার ব্যাপারে অনুমতি দেয়ার পর।
Tafseer
27
إِنَّ ٱلَّذِينَ لَا يُؤۡمِنُونَ بِٱلۡأٓخِرَةِ لَيُسَمُّونَ ٱلۡمَلَـٰٓئِكَةَ تَسۡمِيَةَ ٱلۡأُنثَىٰ
নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।
Tafseer
28
وَمَا لَهُم بِهِۦ مِنۡ عِلۡمٍۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا ٱلظَّنَّۖ وَإِنَّ ٱلظَّنَّ لَا يُغۡنِي مِنَ ٱلۡحَقِّ شَيۡـٔٗا
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনই কাজে আসে না।
Tafseer
29
فَأَعۡرِضۡ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكۡرِنَا وَلَمۡ يُرِدۡ إِلَّا ٱلۡحَيَوٰةَ ٱلدُّنۡيَا
অতএব তুমি তাকে উপেক্ষা করে চল, যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।
Tafseer
30
ذَٰلِكَ مَبۡلَغُهُم مِّنَ ٱلۡعِلۡمِۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِۦ وَهُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱهۡتَدَىٰ
এটাই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিশ্চয় তোমার রবই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।
Tafseer
31
وَلِلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ لِيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ أَسَـٰٓـُٔواْ بِمَا عَمِلُواْ وَيَجۡزِيَ ٱلَّذِينَ أَحۡسَنُواْ بِٱلۡحُسۡنَى
আর আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, তা আল্লাহরই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে ।
Tafseer
32
ٱلَّذِينَ يَجۡتَنِبُونَ كَبَـٰٓئِرَ ٱلۡإِثۡمِ وَٱلۡفَوَٰحِشَ إِلَّا ٱللَّمَمَۚ إِنَّ رَبَّكَ وَٰسِعُ ٱلۡمَغۡفِرَةِۚ هُوَ أَعۡلَمُ بِكُمۡ إِذۡ أَنشَأَكُم مِّنَ ٱلۡأَرۡضِ وَإِذۡ أَنتُمۡ أَجِنَّةٞ فِي بُطُونِ أُمَّهَٰتِكُمۡۖ فَلَا تُزَكُّوٓاْ أَنفُسَكُمۡۖ هُوَ أَعۡلَمُ بِمَنِ ٱتَّقَىٰٓ
যারা ছোট খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না। কে তাকওয়া অবলম্বন করেছে, সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত।
Tafseer
33
أَفَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي تَوَلَّىٰ
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
Tafseer
34
وَأَعۡطَىٰ قَلِيلٗا وَأَكۡدَىٰٓ
আর সামান্য দান করে, তারপর বন্ধ করে দেয়?
Tafseer
35
أَعِندَهُۥ عِلۡمُ ٱلۡغَيۡبِ فَهُوَ يَرَىٰٓ
তার কাছে কি আছে গায়েবের জ্ঞান যে, সে দেখছে?
Tafseer
36
أَمۡ لَمۡ يُنَبَّأۡ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَىٰ
নাকি মূসার কিতাবে যা আছে, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি ?
Tafseer
37
وَإِبۡرَٰهِيمَ ٱلَّذِي وَفَّىٰٓ
আর ইবরাহীমের কিতাবে, যে (নির্দেশ) পূর্ণ করেছিল।
Tafseer
38
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٞ وِزۡرَ أُخۡرَىٰ
তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।
Tafseer
39
وَأَن لَّيۡسَ لِلۡإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।
Tafseer
40
وَأَنَّ سَعۡيَهُۥ سَوۡفَ يُرَىٰ
আর এই যে, তার প্রচেষ্টার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে।
Tafseer
41
ثُمَّ يُجۡزَىٰهُ ٱلۡجَزَآءَ ٱلۡأَوۡفَىٰ
তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে।
Tafseer
42
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلۡمُنتَهَىٰ
আর নিশ্চয় তোমার রবের নিকটই হলো শেষ গন্তব্য।
Tafseer
43
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَضۡحَكَ وَأَبۡكَىٰ
আর নিশ্চয় তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।
Tafseer
44
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَمَاتَ وَأَحۡيَا
আর নিশ্চয় তিনিই মৃত্যু দেন এবং তিনিই জীবন দেন।
Tafseer
45
وَأَنَّهُۥ خَلَقَ ٱلزَّوۡجَيۡنِ ٱلذَّكَرَ وَٱلۡأُنثَىٰ
আর তিনিই যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী।
Tafseer
46
مِن نُّطۡفَةٍ إِذَا تُمۡنَىٰ
শুক্রবিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়।
Tafseer
47
وَأَنَّ عَلَيۡهِ ٱلنَّشۡأَةَ ٱلۡأُخۡرَىٰ
আর নিশ্চয় পুনরায় সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁর উপরই।
Tafseer
48
وَأَنَّهُۥ هُوَ أَغۡنَىٰ وَأَقۡنَىٰ
আর তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন।
Tafseer
49
وَأَنَّهُۥ هُوَ رَبُّ ٱلشِّعۡرَىٰ
আর তিনিই শিরার* রব।* একটি নক্ষত্রের নাম।
Tafseer
50
وَأَنَّهُۥٓ أَهۡلَكَ عَادًا ٱلۡأُولَىٰ
আর তিনিই প্রাচীন ‘আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন।
Tafseer
51
وَثَمُودَاْ فَمَآ أَبۡقَىٰ
আর সামূদ জাতিকেও। কাউকে তিনি অবশিষ্ট রাখেন নি।
Tafseer
52
وَقَوۡمَ نُوحٖ مِّن قَبۡلُۖ إِنَّهُمۡ كَانُواْ هُمۡ أَظۡلَمَ وَأَطۡغَىٰ
আর পূর্বে নূহের কওমকেও। নিশ্চয় তারা ছিল অতিশয় যালিম ও চরম অবাধ্য।
Tafseer
53
وَٱلۡمُؤۡتَفِكَةَ أَهۡوَىٰ
আর তিনি উল্টানো আবাসভূমিকে* নিক্ষেপ করেছিলেন।* সামূদ সম্প্রদায়ের জনপদ।
Tafseer
54
فَغَشَّىٰهَا مَا غَشَّىٰ
অতঃপর সেটাকে আচ্ছন্ন করেছিল, যা আচ্ছন্ন করার ছিল।
Tafseer
55
فَبِأَيِّ ءَالَآءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
তাহলে তুমি তোমার রবের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?
Tafseer
56
هَٰذَا نَذِيرٞ مِّنَ ٱلنُّذُرِ ٱلۡأُولَىٰٓ
অতীত সতর্ককারীদের মত এই নবীও একজন সতর্ককারী।
Tafseer
57
أَزِفَتِ ٱلۡأٓزِفَةُ
কিয়ামত নিকটবর্তী।
Tafseer
58
لَيۡسَ لَهَا مِن دُونِ ٱللَّهِ كَاشِفَةٌ
আল্লাহ ছাড়া কেউই তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
Tafseer
59
أَفَمِنۡ هَٰذَا ٱلۡحَدِيثِ تَعۡجَبُونَ
তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ?
Tafseer
60
وَتَضۡحَكُونَ وَلَا تَبۡكُونَ
আর হাসছ এবং কাঁদছ না?
Tafseer
61
وَأَنتُمۡ سَٰمِدُونَ
আর তোমরা তো গাফিল।
Tafseer
62
فَٱسۡجُدُواْۤ لِلَّهِۤ وَٱعۡبُدُواْ۩
সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং ইবাদাত কর।[সাজদাহ]
Tafseer
তাফসীর পড়তে আয়াতে ক্লিক করুন